বাংলাদেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবাধে প্রবেশ
বাংলাদেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবাধে প্রবেশ

পত্রদূত প্রতিনিধিঃ কদমতলা : ত্রিপুরা রাজ্যকে করিডর বানিয়ে বাংলাদেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবাধে প্রবেশ করছে। অবশ্য এক্ষেত্রে ত্রিপুরা প্রশাসন ও গোয়েন্দা শাখাসহ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে সক্রিয় আন্তর্জাতিক দালাল চক্র এই কাজ করে যাচ্ছে। অজ্ঞাত কারণে রাজ্য প্রশাসন এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিগত এক মাসের মধ্যে এক ডজন অবৈধ বাংলাদেশি যুবক যুবতী ত্রিপুরা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে গিয়ে অসম চুড়াইবাড়ি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল অর্থাৎ সোমবার রাত দশটা নাগাদ আগরতলা থেকে গৌহাটি গামি শেরাওয়ালি ট্রাভেলস AS01LC 8919 নাম্বারের বাগবাসা পোস্টেই সেখানে একজোড়া যুবক-যুবতী বাসে উঠে। ত্রিপুরা সীমান্ত পেরিয়ে অসম চুড়াইবাড়ি গেটে প্রবেশ করতেই ইনচার্জ মিন্টু শিলের নেতৃত্বে গাড়িটি তল্লাশি করে এক জোড়া যুবক-যুবতীকে আটক করা হয় সন্দেহজনকভাবে। পরে পুলিশ তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদের পর বাংলাদেশি বলে শনাক্ত করেন। তাদের সঙ্গে ভারতীয় কোন নথিপত্র ছিল না। আটক যুবকের নাম মোঃ জনি তালুকদার(২৩) পিতা রহিম তালুকদার বাড়ি বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার শিয়ালদিখান থানার শিয়ালদি গ্রামে। তার সঙ্গে তার কাকাতো বোন শবনম আক্তার(২৫) (বাংলাদেশের একই ঠিকানায় বাড়ি) ছিল। অনর্গল বাংলা ভাষায় কথা বলা শবনমের সঙ্গে ব্যাঙ্গালোরে তৈরি একটি ভুয়া আধার কার্ড পাওয়া যায়। সে কর্নাটকের বাসিন্দা বলে নিজেকে দাবি করলে ও প্রথমে জানায় তার জন্ম ভারতের চণ্ডীগড়ে। সে কর্মসূত্রে কখনো বলছে চেন্নাই এবং কখনো বলছে মাদ্রাজ অবস্থান করেছিলো। তার কথাবার্তায় রয়েছে অনেক তারতম্য। তাছাড়া ত্রিপুরার কোন বর্ডার দিয়ে তারা রাজ্যে প্রবেশ করেছে তাও বলতে পারেনি। তাই মোটা অংকের বিনিময়ে দালাল চক্র যে সক্রিয় রয়েছে তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। তাই পুলিশ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আজ তাদের করিমগঞ্জ সিজেএম আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাদের কাছ থেকে দুটি বাংলাদেশি সিম কার্ড আচার ও বাংলাদেশি ঔষধসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি ফোনের নম্বর উদ্ধার করে পুলিশ। বাংলাদেশী নাগরিক আটক অসম চুড়াইবাড়ি থানা যেভাবে সাফল্য পেয়েছে ঠিক তেমনি ব্যর্থ হয়েছে ত্রিপুরা প্রশাসন।

আরো পড়ুন