নারী পাচার চক্র
নারী পাচার চক্র

পত্রদূত প্রতিনিধিঃ ঢাকাঃ হাবিবুর রহমানঃ সম্প্রতি বাংলাদেশি তরুণীকে ভারতের কেরালায় নৃশংসভাবে যৌন নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের হোতা আশরাফুল মণ্ডল ওরফে বস রাফি সহ ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। র্যা বের দাবি, বস রাফি গত ৮ বছরে ৫০০ নারীকে ভারতে পাচার করেছেন। এসব নারীকে আটকে রেখে মাদক সেবনে এবং যৌনকর্মীর কাজে বাধ্য করা হতো। এই চক্রের সদস্যসংখ্যা নারীসহ অন্তত ৫০ জন। গ্রেপ্তার অন্য ৫ জন হলেন রাফির অন্যতম সহযোগী সাহিদা বেগম ওরফে ম্যাডাম সাহিদা, ইসমাইল সরদার, আব্দুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ, রুবেল সরকার ওরফে রাহুল ও মোসা. সোনিয়া। র্যা বের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যা ব-১১-এর সহকারী পরিচালক সম্রাট তালুকদার জানান। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণীদের বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে পাচার করেন। সেখানে তাদের দিয়ে ‘অনৈতিক’ কাজ করানো হয়। কেউ রাজি না হলে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে করানো হয়। ভারতের কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে নৃশংস যৌন নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার পর জানা যায়, নিপীড়কদের একজন বাংলাদেশি নাগরিক। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিপীড়ক যুবক রাজধানীর হাতিরঝিলের মগবাজার এলাকার রিফাদুল ইসলাম হৃদয়। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘টিকটক হৃদয় বাবু’ নামে পরিচিত। এ ঘটনায় হৃদয়সহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। সংঘবদ্ধ পাচারকারীদের নৃশংস যৌন নিপীড়নের ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের পুলিশ ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয়। এরই একপর্যায়ে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হন। ভারতে ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা ২৭ মে ঢাকার হাতিরঝিল থানায় মানব পাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় টিকটিক হৃদয় বাবুসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়।

আরো পড়ুন